তিন বেলার খাবার তালিকা

সুস্থতা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া অনেক বড় একটি নেয়ামত। আমরা যারা সুস্থ আছি তারা এই সুস্থতার মূল্য তেমন বুঝি না। কিন্তু যারা অসুস্থ আছে তারা এর মূল্য ঠিকই বোঝে। একটু সুস্থতার সুখের আশায় কতোই না সংগ্রাম করতে হই তাদের।  আবার আমাদের মাঝে অনেকেই সঠিক পুষ্টি বা খাবারের  অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা অনেকেই জানি না প্রতিদিন কোন খাবার আর কি পরিমাণ খাইতে হবে।  চলুন নিচে গিয়ে আমরা সব জেনে নিই এবং সঠিক নিয়মে সঠিক খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলি এবং সুস্থ থাকি।

আমরা সাধারণত তিন বেলা খেয়ে থাকি। সকাল, দুপুর আর রাত। এই তিন বেলা খাওয়ার জন্য সঠিক খাবার আর একটি সঠিক রুটিনই আমাদের সুস্থ রাখতে অনেক সহায়তা করবে। পাশাপাশি নাস্তায় কোন খাবার রাখলে ভালো হয়, তা নিয়ে আমরা জানবো।

পোষ্ট  সূচীপত্র:- তিন বেলার খাবার তালিকা

সকাল,দুপুর ও রাতে কতোটুকু খাওয়া উচিত:-

ছোট থাকতে আমাদের নানি- দাদিরা বলতো তিনবেলার খাবার তিন নিয়মে খাইতে হয়। সকালে রাজার মতো, দুপুরে যুবরাজের মতো আর রাতে ভিকারির মতো  (এখানে রাজা,যুবরাজ আর ভিকারি বলতে বুঝায়:- সকালে বেশি, দুপুরে একটু কম, আর রাতে আরেকটু কম খাওয়াকে বুঝানো হয়েছে ) ।  ছোট থাকতে এটা নিয়ে মজা নিলেও বড় হয়ে জানতে পারলাম এটা ডাক্তারি ভাবে প্রমাণিত। 

ডাক্তাররা বলেন সকালে প্রত্যেকেই অনেক  শ্রম করে,  ফলে  অনেক পুষ্টির প্রয়োজন হয় এজন্য সকালে রাজার মতো খাইতে বলা হয়েছে। সকালে রাজার মতো খাইলে কাজ করার এনার্জি পাওয়া যায়, ফলে শরীর সুস্থ থাকে। কাজে মন বসে,  আর কাজ করতেও ক্লান্তি লাগে না। যার কাজের পরিমাণ যতো বেশি সে ততোবেশি খাবে। যাদের কাজে কষ্ট কম সে একটু কম করে খাবে। 

দুপুরে যুবরাজের মতো খাইতে বলার কারণ:- আমরা যারা অফিসে বা পড়াশোনা করি তারা বেশি করে খাইলে অলসতা কাজ করে ভেতরে।  ফলে কাজ বা পড়াশোনা করতে অসুবিধা হই। আবার সকালের থেকে দুপুরে কাজের চাপ কম এজন্য কৃষকেরাও কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন, যেনো খাবার ঠিকমতো হজম হই আর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুষ্টি ছড়িয়ে পড়ে। 

মনে রাখবেন দুপুরের খাবার সকালের থেকে কম আর রাতের থেকে বেশি খাবেন। রাতের খাবার খাওয়ার সময় সবথেকে সতর্ক থাকবেন। কারণ রাতে আপনি যখন ঘুমাবেন তখন শরীর রেষ্ট করে,  ফলে হজম কম হই। আর রাতের দিকে যদি আপনি বেশি খান তাহলে হজম ঠিকমতো হবে না, শরীরে পুষ্টি যাবে না ঠিকমতো। আর রাতে অতিরিক্ত খাবারের ফলে বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। 

এজন্য ডাক্তারেরা রাতে ভিকারির মতো খাইতে বলছেন। এজন্য রাতে খুবই কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর যদি আপনি দিনের বেলায় বেশি কঠোর কাজ করেন তাহলে রাতে একটু বেশি খাইতে পারেন সেটা নির্ভর করবে আপনার কাজের উপর। কিন্তু দুপুরের থেকে কম খাইতে হবে।

সকালে যেসব খাবার খাবেন:-

সকালের খাবার হিসেবে যেসব রাখা উচিত তা হলো:-
  1. বাদাম,কিসমিস, ছোলা বোট।
  2. ১টি ডিম পোচ বা সিদ্ধ ডিম।
  3. আটা দিয়ে তৈরি রুটি। (২-৩টা)
  4. সবজি খিচুড়ি /ডাল ভাত/ সবজি ভাজি।
  5. কিছু ফলমূল ইত্যাদি ইত্যাদি। 
এগুলো আমাদের শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।  ফলে কাজ করে শান্তি পাওয়া যায় আর মনমানসিকতা ভালো রাখে।

দুপুরে যেসব খাবার খাবেন:-

ওইযে বললাম দুপুরে যুবরাজের মতো খাইতে হবে।  দুপুরে যেসব খাবার আমরা রাখতে পারি তা হলো:-
  1. এক-দেড় প্লেট ভাত।
  2. ডাল রাখবেন। (মসুর বা মুগ)
  3. মাছ,গোস্তো আর সবজি।
  4. টক দই রাখলে ভালো হয়।
  5. আর কিছু সালাত।
আপনারা আপনাদের সামার্থ মতো খাবার কিনে খাবেন। কিন্তু রাজার মতো পেট ভরে নই যুবরাজের মতো খাবেন,  মানে সকালের থেকে একটু কম খাবেন।

রাতে যেসব খাবার খাবেন :-

রাতের খাবার হিসেবে যা রাখবেন :- 
  1. রুটি-গোস্ত
  2. ভাত,ডাল,সবজি,সালাত
  3. স্যুপ
  4. টক দই কিংবা গরম দুধ এসবই।
রাতের খাবার দুপুরের থেকে কম খাবেন। তাহলে বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্ত থাকবেন।

সন্ধ্যার নাস্তা:-

সন্ধ্যায় একবারে পেট ভরে খাবেন না। হালকা কিছু খাবেন। যাতে রাতের খাবারের আগ পর্যন্ত ক্ষুধা না লাগে। শরীরে দুর্বলতা ভাব যেনো না আসে। আবার চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলবেন, খুবই কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সন্ধ্যায় যেসব খাবেন :-
  1. চা-বিস্কুট 
  2. ফলমূল 
  3. স্যুপ
  4. একটু টক দই
  5. গরম দুধ ইত্যাদি ইত্যাদি

বাচ্চাদের জন্য বিশেষ খাবারের নিয়ম:- 

আরো পড়ুন:- বাচ্চাদেরকে এভাবে খাবার তৈরি করে দিবেন তারা অনেক মজা করে খাবে। আর এই খাবার আপনার বাচ্চার শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরজে লাইফ হাবের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url