সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়
সকালে কালোজিরা খাওয়া অনেক উপকারী।। কালোজিরা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি
পায়। গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। মাথা ব্যাথা দূর
করে। মূখের কালো দাগ রিমুভ করে। এমনকি কালোজিরা সম্পর্কে হাদিসেও লিপিবদ্ধ রয়েছে।
চুল পড়া দূর করে। ডায়েট রাখতে সাহায্য করে। হজমকারী ইনজাইম বৃদ্ধি করে যা, আমাদের
জন্য অনেক উপকারী। মূলত ইসলাম ও বিজ্ঞানের বলে কালোজিরা মৃত্যু বাদে সকল রোগের
ঔষধ।
পোষ্ট সূচীপত্র ঃ সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়
- সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়
- কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ
- চুলের যত্নে কালোজিরার তেল
- খালি পেটে কালোজিরা খেলে যেসব পরিবর্তন আসবে
- মধু ও কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
- কালোজিরা তেল খাওয়ার উপকারিতা
- কালোজিরা খাওয়ার সঠিক নিয়ম সকালে নাকি রাতে
- টানা ৭দিন কালোজিরা খেলে কি হয়
- কালোজিরা খেলে যেসকল রোগ দূর হয়
- কালোজিরা ফুলের মধুর গুণাগুণ
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে কি হয়
সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে অনেক রোগ থেকে বেচে থাকা যায়। কালোজিরা হচ্ছে
প্রাচীনতম একটি ঔষধ। কালোজিরাকে বলা হয় মৃত্যু বাদে সকল রোগের ঔষধ। প্রাচীনকালে
অসুখ থেকে মুক্ত পেতে কালোজিরাকে প্রধান ঔষধ হিসেবে রাখা হতো। কিন্তু রোগ
ভেদে ঔষধও প্রদান করা হতো। বিজ্ঞানীরাও কালোজিরাকে মহা ঔষধ বলে।
এমন কোনো অসুখ নেই যে কালোজিরার মাধ্যমে ভালো হই না। সব রোগকে দূর করে কালোজিরা।
কালোজিরা মানুষের শরীরের ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করে ডায়েট রাখতে সহায়তা করে। হজমশক্তি
বৃদ্ধি করে। হজমকারী এনজাইম তৈরি করে। পেটের ফোলাভাব ও গ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ রাখে।
কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে। শরীর সতেজ রাখতে সহায়তা করে কালোজিরা।
কালোজিরা সম্পর্কে যতোই বলি তাও এর গুণাগুণ শেষ হবে না। কালোজিরা সম্পর্কে আল্লাহ
তায়ালা বলেন : "আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা ও মুমিনের
জন্য রহমত" (সূরা বনী ইসরাইল: ৮২)। কালোজিরা নিয়ে নবীজি (স:) বলেন: "নিশ্চয়ই এই
কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ" (সহীহ বুখারী: ৫৬৮৮, সহীহ মুসলিম: ২২১৫)।
কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ
কালোজিরা খেলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত লাভ করা যায়। কালোজিরায় রয়েছে আয়রন ও জিংক,
ওমেগা ফ্যাটি এসিড, এন্টি অক্সিডেন্ট, ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ক্যালসিয়াম
ম্যাগনেসিয়াম, এসেনশিয়াল ওয়েল, থাইমোকুইনোন। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়ায়। রক্তশূন্যতা দূর করে। চুল ও ত্বক ভালো রাখে।
ক্যান্সার ডায়াবেটিস দূর করে এই কালোজিরা। হাড় মজবুত করে, বয়স হলেও
ক্লান্তি আসে না। শরীরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার লড়াই করে এই কালোজিরা। এমনকি
সর্দি-কাশিও দূর করে এই কালোজিরা। ব্রেনকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। চেহারার কালো
দাগ রিমুভ করতে সহায়তা করে কালোজিরা। সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে অনেক
উপকার পাওয়া যায়।
বাচ্চাদের কালোজিরা খাওয়ানো উচিত। কালোজিরাতে থাকা গুণাগুণ বাচ্চাদের দ্রুত
বৃদ্ধি ও সুস্থ রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কালোজিরার দানা খাইতে না পারলে
কালোজিরার মধু কিংবা কালোজিরার তেল খাওয়াবেন আপনার বাচ্চাদের। তাদের শরীরে
কালোজিরার তেল মাখাবেন। মাথায় তেল মালিশ করে দিবেন এগুলো বাচ্চাদের জন্য অনেক
উপকারী।
চুলের যত্নে কালোজিরার তেল
চুলের জন্য কালোজিরার তেল অনেক উপকারী। কালোজিরার তেলে রয়েছে থাইমোকুইনোন, ওমেগা,
ভিটামিন, আয়রন জিংক এসবই। যা আমাদের চুলের গড়ায় ঠিকমতো রক্ত প্রদাহ করে। চুলে
গড়ায় ঠিকমতো শক্তি পাই। খুশকি দূর করে। মাথা ঠান্ডা রাখে। টেনশন কমাতে সহায়তা
করে কালোজিরায় তৈরি এই উপকারি তেল।
কালোজিরার তেল ব্যবহারের ফলে চুল পড়া দূর হই। নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে এই তেল।
স্ক্যালপের ইনফেকশন দূর করে আদ্রতা বজায় রাখে। চুলের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে চুলকে
মৃসণ রাখে। আগা ফাটার সমস্যা কমায়। কিন্তু নিয়ম মেনে কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে
হবে। সঠিক নিয়মে কালোজিরার তেল ব্যবহার করতে হবে।
প্রথমে পরিমাণমতো কালোজিরার তেল হাতে নিতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে ম্যাসেজ করতে
হবে যেনো স্ক্যালপ পর্যন্ত তেল পৌছায়। এরপর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলুন। আর শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। চুলের যত্নে সিরাম বা কন্ডিশনার ব্যবহার
করবেন। সিরাম ও কন্ডিশনার চুলকে নরম রাখে। চুলের জোট ছড়াতে সাহায্য করে এবং
ধূলাবালি ও দূষণ থেকে চুলকে রক্ষা করে।
খালি পেটে কালোজিরা খেলে যেসব পরিবর্তন আসবে
সকালে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। বর্তমান যুগ আধুনিকতার
যুগ। এই যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুকির
সম্মুখীন হয়। বিভিন্ন রোগবালয়ের সম্মুখীন হয়। এসব রোগবালয়ের
মধ্যে কিছু একবারে আমাদের শরীরে প্রভাব ফেলে আবার কিছু রোগ বালাই
দিনে দিনে আমাদের শরীরে প্রভাব ফেলে। আপনারা জানলে অবাক হবেন।
প্রতিদিন সকালে কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে এসব রোগ বালাই থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা
যায়। কিন্তু একদিন কালোজিরা খেলে হবে না। এটা রুটিন মেনে প্রতিনিয়ত খেতেই
হবে। তবেই আমরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগ থেকে মুক্তি পাবো। সকালে কালোজিরা
খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় ফলে কাজ করার পর্যাপ্ত
শক্তি পায় আমাদের শরীর। পাচনতন্ত্রকে উত্তেজিত করে।
মূলত হজমশক্তি বৃদ্ধি এবং পচনতন্ত্রকে উত্তেজিত করে বিধায় শরীরে বিভিন্ন স্থানে
পুষ্টির ও শক্তি সরবরাহ সচল থাকে। সকালে কালোজিরা খাওয়ার মাধ্যমে পুষ্টি ও
শক্তি সরবরাহ সচল থাকে বলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগবালাই বাসা বাঁধতে পারে না।
সকালে খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম হচ্ছেঃ ঘুম থেকে উঠে কালোজিরার কয়েকটি
দানা চিবিয়ে খান সাথে এক গ্লাস উষ্ণ পানি পান করুন। এভাবে কালোজিরা প্রতিনিয়ত
খেতেই থাকলে ইনশাআল্লাহ মৃত্যু ব্যতীত সকল রূপ থেকে মুক্ত পাবেন।
মধু ও কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা
মধু ও কালোজিরা একসঙ্গে খাওয়া খুবই ভালো একটি দিক। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই
ভালো। মধু ও কালোজিরা একসঙ্গে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাই। মধু ও
কালোজিরা একসঙ্গে খেলে সর্দি কাশি ও গলা ব্যাথা দূর হয়। বাচ্চাদের
সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথা হলে মধু ও কালোজিরা খাওয়াতে পারেন। এটি আপনার বাচ্চার
সর্দি কাশি ও গলা ব্যথা দূর করবে।
মধুতে প্রায় ৪৫টির মতো খাদ্য উপাদান রয়েছে। এটি একটি ভেষজ তরল উপাদান বা খাদ্য।
মধুর গুনাগুন ও উপকারিতা অনেক। কালোজিরা খেলে যেমন বিভিন্ন রোগবালায় দূর হয়
তেমনি মধু খেলেও বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে মুক্ত পাওয়া যায়। মধু খেলে রক্ত
শূন্যতা দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় শরীরের আদ্রতা বজায় থাকে তাপমাত্রা
নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মধু ও কালোজিরা পুরুষদের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ইসলামে মধু ও কালোজিরা কে
অত্যন্ত বরকতময় উপকারী ও রোগমুক্তির মাধ্যম বলা হয়। মধু সম্পর্কে রাসুল
(সা:) বলেছেনঃ মধু হলো মানুষদের জন্য উত্তম ওষুধ। আর কালোজিরা সম্পর্কে তিনি
বলেনঃ তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করো। কেনোনা এটি মৃত্যু বাদে সকল রোগ নিরাময় করে।
রাসুল (সাঃ) নিজেও কালোজিরা ও মধু খেতেন আর সাহাবীদেরও খেতে বলতেন।
কালোজিরা তেল খাওয়ার উপকারিতা
কালোজিরার দানা থেকে উৎপাদিত তেলকেই কালোজিরার তেল বলে। এই তেল শত শত
যুগ থেকেই মানুষ তার দৈনদিন কাজে ব্যবহার করে আসতেছে। কেউ রোগ মুক্তির
কাজে এই তেল ব্যবহার করতেছে আবার কেউ একটু সাদের আশায় কিছু খাবারে তেল
ব্যবহার করতেছে। যেমন:(অনেকেই ভাতের সাথে একটু কালো জিরার তেল মাখিয়ে নেই
আবার অনেকেই কালোজিরার তেল ভর্তায় ব্যবহার করে)।
ঠান্ডা লাগলে বা সর্দি কাশি হইলে কালোজিরার তেল অনেক উপকার করে। শ্বাসনালীর
প্রদাহ ও হাঁপানি টান কমায় এই কালোজিরার তেল। কালোজিরার তেল দেহে মালিশ
করলে দেহের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। ব্যথা স্থানে কালোজিরা তেল মালিশ
করলে মাথা দূর হয়। চেহারায় কালোজিরার তেল দিলে ব্রণ দূর হয় এবং ত্বকের
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
চোখের নিচে কালো দাগ দূর হয়। কালোজিরা তেল চুলে ব্যবহার করলে চুলের আগা ফাটা দূর
হয়। চুল পড়া দূর হয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে
কালোজিরা তেল মাথায় মালিশ করে ঘুমালে ঘুম ভালো হয় এবং মন মানসিকতা ভালো
থাকে। আর ঘুম ভালো হলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং পরের দিন কাজ করার
এনার্জি আসে।
কালোজিরা খাওয়ার সঠিক নিয়ম সকালে নাকি রাতে
অনেকেই মনে করেন কালোজিরা সকালে খাওয়া ভালো হবে নাকি রাতে খাওয়া ভালো হবে।
এরকম বিভিন্ন প্রশ্ন আপনার মনে গেঁথে রয়েছে। উত্তর হচ্ছে কালোজিরা খাওয়ার
নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। আপনি যখন ইচ্ছে তখনই খেতে পারবেন। মন চাইলে রাত দুইটার
সময়ও খেতে পারবেন আবার মন চাইলে সকালেও কিংবা দুপুরেও খেতে পারবেন।
সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু রোগ ভেদেও
কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। সকালে খালি পেটে কালোজিরা খেলে রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরে কোন ক্লান্তি আসে না আরো
মন-মানসিকতা ভালো থাকে। কাজ করার শক্তি আসে। কোন রকম ক্লান্তি অনুভব হয় না।
আর রাতে ঘুমানোর আগে কালোজিরা তেল মাথায় মালিশ করলে ঘুম ভালো হয়। ঘুমানোর
আগে কালোজিরার দানা বা কালোজিরা তেল খেলে গ্যাস দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
কিন্তু কালোজিরার দানা খাওয়ার আগে খেয়াল করবেন দানা টা কি চিবিয়ে চিবিয়ে
খাচ্ছেন নাকি অর্ধেক চিবিয়ে খেয়ে ফেলছেন। অর্ধেক চিবিয়ে খেয়ে ফেললে এটি বদহজম
হতে পারে।
টানা ৭দিন কালোজিরা খেলে কি হয়
বেশিরভাগ মানুষই জানে না টানা সাত দিন কালোজিরা খেলে কি হয়। কালোজিরায় এমন কি
রয়েছে যে যুগ যুগ ধরে এটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আগের যুগে
কবিরাজরা এই কালোজিরা ব্যবহার করেই রোগবালাই দূর করত। কিন্তু মানুষ এই আধুনিকতার
যুগের ছোঁয়া পেয়ে কালোজিরাকে তেমন আর গুরুত্ব দেয় না।
টানা সাত দিন কালোজিরা খাওয়ার এই নিয়মে আপনি প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন পরিবর্তন
দেখতে পারবেন। আপনি কালোজিরা খাওয়ার প্রথম দিন থেকেই শরীরে শক্তি অনুভব
করবেন। হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবেন ফলে খাবারের প্রতি একটা রুচি অনুভব হবে। প্রথম দিন
থেকেই আপনি ক্লান্তি অনুভব কম করবেন। বুঝতে পারবেন আপনার শরীরের
গঠন।
টানা সাত দিন কালোজিরা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দৃঢ় হয়। যৌন ক্ষমতা
বৃদ্ধি পায়। টানা সাত দিন কালোজিরা খেলে চেহারার কালো দাগ দূর হয়। ব্রণ রিমুভ
হয়ে যায়। চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পাই। ব্রেন ফ্রেশ থাকে ফলে পড়াশোনা কিংবা কাজের
প্রতি মন বসে। টানা সাত দিন কালোজিরা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। আরো
অনেক উপকারে করে এই কালোজিরা। এজন্য রুটিন মেনে প্রতিনিয়ত কালোজিরা খাওয়া
উচিত।
কালোজিরা খেলে যেসকল রোগ দূর হয়
কালোজিরা হচ্ছে অনেক উপকারী ও বরকতময়ী ঔষধ। এ সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী হযরত
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস বর্ণিত করেন। তিনি নিজেও
কালোজিরা খাইতেন এবং সাহাবীদেরও কালোজিরা খাওয়ার আদেশ করতেন। কারণ কালোজিরা
হচ্ছে এমনই এক মহা ঔষধ যা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগকে নিরাময় করে।
কালোজিরার বিশেষত্ব অনেক। এমন কোন অসুখ নেই যে তা ভালো হয় না। কিন্তু ধৈর্য ধরে
নিয়ম মেনে খেতে হবে। চাইলেই তো একদিন কালোজিরা খেলে অসুখ ভালো হবে না। দীর্ঘ
সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে খাইতে হবে তাহলে ক্যান্সার ডায়াবেটিস এর মত বড় বড় অসুখও
ভালো হয়ে যাবে। কালোজিরা ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগকেও কন্ট্রোলে রাখে।
কালোজিরা খেলে লিভার ভালো থাকে। রক্ত চলাচল সচল থাকে। রক্ত শূন্যতা দূর
করে। প্রেগনেন্সি মহিলাদের বাচ্চা ও মা দুজনকেই ভালো রাখে। কালোজিরা খেলে
উচ্চ রক্তচাপ, হাই প্রেসার, হার্ট অ্যাটাক এবং স্টোক থেকে আমাদের মুক্ত
রাখে। কালোজিরা ফ্যাটি লিভার কমাতে সাহায্য করে। যারা ফুসফুসের বিভিন্ন
রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য কালোজিরা খুব উপকারী।
কালোজিরা ফুলের মধুর গুণাগুণ
মধু এই নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। কারণ মধু খেতে পছন্দ করে না এমন
লোকের সংখ্যা খুবই কম। মধু খেতে খুবই সুস্বাদু আর সেটা যদি হয় কালোজিরা ফুলের
মধু তাহলে তো কোন কথাই নেই। মধু তো এমনিতেই অনেক উপকারী তার উপর কালোজিরা ফুলের
মধু আরো অনেক উপকারী। কালোজিরা ফুলের মধু অনেক দামি এবং উপকারী বেশি হওয়ায় এটি
সচরাচর পাওয়া যায় না।
কালোজিরা ফুলের মধুর বিশেষত্ব বা গুনাগুন অনেক। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
করতে এবং ত্বককে নরম ও কোমলীয় করতে কালোজিরা ফুলের মধু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়া সর্দি-কাশি দূর করে কালোজিরা ফুলের মধু। যাদের কথা বলতে অসুবিধা হয় মানে
কথা আটকে তোতলা তোতলা ভাব তারা নিয়মিত কালোজিরা ফুলের মধু খেলে এই রোগ
থেকে মুক্তি পাবে।
ওজন কমাতে কিংবা ওজন বৃদ্ধি করতে কালোজিরা ফুলের মধু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
কালোজিরা ফুলের মধু বাচ্চাদের বৃদ্ধিতে ও বাচ্চাদের সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন
করে। মধু মিষ্টি হওয়ায় বাচ্চারা এটি খেতে আরো আনন্দিত অনুভব করবে। যাদের
ডায়াবেটিস আছে তারা চায়ের সাথে কালোজিরা ফুলের মধু খাবেন। তাহলে ডায়াবেটিসও
নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আপনিও সুস্থ থাকবেন।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
ইসলামে কালোজিরার বিশেষত্ব অনেক। কালোজিরা সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস বর্ণিত করেন। তিনি বলেনঃ
কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ওষুধ। তিনি নিজেও খেতেন এবং সাহাবীদেরও খাইতে
বলতেন। এটি যেহেতু আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইতেন তাই
আমাদের উচিত আমাদেরও তার অনুসরণ করা। তার দেওয়া নিয়ম মেনে চলা। তাহলে আমরা
সুস্থও থাকতে পারবো এবং ইসলামের উপর ও সুন্নতের উপর অটল থাকতে পারবো।
আর বিজ্ঞানীরাও কালোজিরা নিয়ে পরীক্ষা করছেন এবং তারাও কালোজিরা
নিয়মিত খাইতে বলেন। যারা কালোজিরার দানা খাইতে পারেন না তারা কালোজিরার তেল
কিংবা কালোজিরা ফুলের মধু খাওয়ার চেষ্টা করবেন। নয়তো আমার মত কালোজিরা ভর্তা
বানিয়ে খিচুড়ি দিয়ে খাইবেন। আমি কালোজিরার ভর্তা ও কালোজিরার
তেল ভাত ও খিচুড়ি দিয়ে খায়। খুবই সুস্বাদু আপনারাও চেষ্টা করবেন এভাবে
খাওয়া।
এটি খাওয়া কষ্টের কোনো কথা নয়। বরং আরো আমাদের জন্যই ভালো। কালোজিরা নিয়ম
মেনে খেতে পারলে ইনশাআল্লাহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন। আর যারা
বয়স্ক মানুষ কালোজিরা প্রতিদিন খাবেন তারা ১৮ বছরের যুবকদের মত শক্তি অনুভব
করবেন। এজন্য আপনারা নিজেরাও কালোজিরা খাবেন এবং অন্যদেরও খাইতে বলবেন। আপনার
বাবা-মা কিংবা ছেলে মেয়েদের খাইতে বলবেন।
আমার এই পোস্টে কোন ভুল ত্রুটি হলে দয়া করে মাফ করে দিবেন কিংবা আমাকে বুঝিয়ে
দিবেন যেন পরবর্তীতে আরো ভালো করতে পারি। আর আপনাদের কোন বিষয়ের প্রতি জানার
ইচ্ছে হলে কমেন্টে বলবেন।
.webp)

.webp)
আরজে লাইফ হাবের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url