চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা

চুল আল্লাহর দেওয়া অনেক বড় একটি নিয়ামত। যাদের মাথায় চুল নেই কিংবা অকালে চুল পড়ে যাচ্ছে, চুলের আগা ফেটে যাচ্ছে শুধু তারাই বোঝে এর কষ্ট।কতো কি ব্যবহার করা হই চুলের যত্ন নিতে। বড় বড় চিকিৎসা নেওয়া হই তবুও চুলের সমস্যা রয়েই যাই। যদি  ঘরের উপকরণেই আপনার এই সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যেতো, তাহলে কেমন হতো। আর এটা কি আদোই সম্ভব? 

চুলে-কালোজিরা-তেলের-উপকারিতা

হ্যা, আপনি ঠিকই শুনছেন। ঘরে থাকা একটি উপকরণের মাধ্যমেই আপনার চুলের সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আমি বলছিলাম কালোজিরার কথা। কালোজিরার নাম শুনেন নাই এমন কেউ নেই। আর কালোজিরা মহারোগের ঔষধ এটাও নিশ্চয়ই সবাই জানেন। তেমনি চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা অনেক।


সূচীপত্রঃ চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা

চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা

চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা অনেক। এটি যুগ যুগ ধরে চুলের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসতেছে। যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে, পেকে যাচ্ছে, আগা ফেটে যাচ্ছে তারা যদি নিয়মিত কালোজিরার তেল ব্যবহার করে তাহলে এই সকল সমস্যা আর দেখা দিবে না। অনেকের চুল পড়ে যাচ্ছে এই ভয়ে অনেক দামী দামী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন, কিন্তু তারা জানেই না ঘরে থাকা এই উপকরণই তাদের টাক পড়া রক্ষা করবে। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

কালোজিরা তেল ব্যবহার করলে খুশকি দূর হই, চুলের আগা ফাটা দূর হই, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, চুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, এতো কিছু করলাম তাও চুলের সমস্যা দূর হলো না আর কালোজিরা কিভাবে এই সমস্যা দূর করবে? আমি বলবো আপনি নিয়ম মেনে ব্যবহার করে দেখুন তাহলেই এর ফলাফল নিজ চোখে দেখতে পারবেন। কিন্তু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। কোনো কিছুই একদিনে সম্ভব নই। সবকিছুর জন্যই ধৈর্যের প্রয়োজন।

আবার চুল পড়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আপনার যদি শারীরিক সমস্যার জন্য চুল পড়ে তাহলে কালোজিরা তেল দিয়ে কোনো লাভ হবে না।  আপনার বুঝতে হবে কোন কারণে আপনার চুল পড়ে যাচ্ছে, আপনি যদি অতিরিক্ত চিন্তা করেন বা ঠিকমতো ঘুম না হই কিংবা পুষ্টির ঘাটতি থাকে তাহলে আপনার ডাক্তারি চিকিৎসা নিতে হবে। আর আপনার যদি ঘুমের ঘাটতি হই তাহলে নিয়মিত ঘুমই আপনার এই চুল পড়ার সমাধান হয়ে দাঁড়াবে।

কালোজিরা তেলের পুষ্টি ও গুণাগুণ

কালোজিরার তেল হচ্ছে থাইমোকুইনন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৬, ফ্যাটি-এসিড, ওলেইক অ্যাসিড, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম সমৃদ্ধ একটি ভেষজ উপাদান। কালোজিরার তেল সকল গুণ সমৃদ্ধ একটি উপকরণ যা আপনার চুল এবং ত্বকের সকল সমস্যা দূর করবে। কালোজিরা তেলে থাকা এই উপকরণগুলো শুধু আপনার  চুলের যত্নে সীমাবদ্ধ নই। কালোজিরার তেল ব্যবহার করলে আপনারা আরো রোগ থেকে মুক্ত পাবেন।

কালোজিরা তেল খাইলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাই, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শরীরের ক্লান্তি দূর করে এনার্জি বৃদ্ধি করে, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলগুলো নিয়ন্ত্রণ রাখে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আবার কালোজিরার তেল নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ঘুম ভালো হই, মাথা ঠান্ডা রাখে, যাদের কথায় কথায় রাগ উঠে তারা কালোজিরার তেল নিয়মিত ব্যবহার করবেন ইনশাআল্লাহ ভালো ফলাফল পাবেন। কিন্তু চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা বেশি। নিয়মিত ব্যবহারের করলে চুলের সকল সমস্যা দূর হবে।

আবার কালোজিরার তেল ব্যবহার করা নবীজির সুন্নত। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ( সঃ ) তিনিও কালোজিরার তেল ব্যবহার করতেন, কালোজিরার তেল খাইতেন এমনকি  সাহাবিদেরও বলতেন। তিনি বলেন কালোজিরা মৃত্যু বাদে সকল রোগের ঔষধ। আর এটি মহাঔষধ হিসেবে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসতেছে। এজন্য কালোজিরা শুধু চুলের যত্নে নই বেঁচে থাকতেও সাহায্য করে।

কালোজিরা তেল ব্যবহারের নিয়মনীতি

চুল ও ত্বকের যত্নের কথা উঠলেই সবার মাথাই বাজারের বিভিন্ন হেয়ার অয়েল বা শ্যাম্পুর কথা মনে পড়ে। কিন্তু কালোজিরার তেলও আপনার চুল ও ত্বককে সুন্দর ও সতেজ করে তোলে। চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা অনেক। প্রত্যেক জিনিস ব্যবহারের একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে কিংবা কিভাবে তা ব্যবহার করলে বেশি টেকসই হবে। আর আমরা সেই নিয়ম মেনেই তা ব্যবহার করি। উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে আপনার হাতে থাকা মোবাইলের কথাই বলি।

দোকানদার বলছে এই নিয়মে মোবাইল চালালে বেশি টেকসই হবে এবং আপনিও সেইভাবেই ফোন চালান, যেনো ফোনের কোনো ক্ষতি না হই। তেমনি কালোজিরার তেল সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে পারলে আপনার চুল ও স্ক্যাল্প নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। কালোজিরা তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম হচ্ছেঃ আপনার চুলে কতোটুকু তেল লাগবে সেই মাপে আপনার হাতের তালুতে ঢেলে নিন। তারপর দুই হাত দিয়ে মাখিয়ে একটু গরম করিয়ে নিন। তারপর আপনার স্ক্যাল্পে আলতো করে ম্যাসেজ করুন।

ভালো করে ম্যাসেজ করে সর্বনিম্ন ৩০ মিনিট রাখার পরে শ্যাম্পু দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন। আরো বেশি ফলাফল চাইলে ঘুমানোর আগে মাথায় ব্যবহার করতে পারেন। যদি কারো এলার্জি বা স্কিন জনিত সমস্যা থাকে তাহলে তারা অল্প একটু তেল নিয়ে মাথায় দিয়ে দেখবেন। যদি  অস্বস্তি বোধ মনে হই তাহলে কালোজিরা তেলের সাথে অলিভ ওয়েল বা নারিকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সমস্যা না হলেও ব্যবহার করতে পারেন, কারণ কালোজিরা তেলের সাথে অলিভ ওয়েল বা নারিকেল তেল মিশাইলে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, সপ্তাহে কয়দিন ব্যবহার করা ভালো হবে। কালোজিরা তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম হচ্ছে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন। এর বেশি ব্যবহার করবেন না। নইতো স্ক্যাল্পে তেল জমে সমস্যা হতে পারে।

কালোজিরার তেল কেমন প্রভাব ফেলে

কালোজিরার তেল মানবদেহে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  কালোজিরার তেল শুধু মাথায় মালিশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নই। বরং কালোজিরার তেল খেলেও আমাদের শরীরে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কালোজিরার তেল খিচুরি বা ভর্তার সাহে খেতে পারেন। কালোজিরা আমাদের শরীরের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হজম শক্তি বাড়াই, সর্দিকাশী দূর করে। 
চুলে-কালোজিরা-তেলের-উপকারিতা

হ্রদরোগের ঝুঁকি কমায়, মস্তিষ্ক সতেজ ও সবল রাখে। এছাড়াও ত্বক ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কালোজিরা তেলের উপকারিতা অনেক। চেহারার কমলতা বৃদ্ধি করে, চোখের নিচে কালো দাগ রিমুভ করে, ব্রণ রিমুভ করে। যাদের শীতের দিনে পা ফেটে যায়, তারা কালোজিরার তেল ব্যবহার করবেন। এছাড়াও কালোজিরার তেল ব্যাথা স্থানে মালিশ করলে ব্যাথা দূর হই। কালোজিরা তেলের উপকারিতা অনেক।

কালোজিরা তেলের নেতিবাচক গুণ নেই বললেই চলে। তবুও কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে যেমন, মাথায় অতিরিক্ত কালোজিরার তেল ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পের সমস্যা হবে। এছাড়াও কালোজিরা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, অতিরিক্ত খাইলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাবে। বেশি কালোজিরার তেল খেলে বদহজমও হতে পারে। স্কিনে বেশি কালোজিরা তেল ব্যবহার করলে ইতিবাচকের গুণোগুলো নেতিবাচকে আঘাত হানবে।

কালোজিরা তেল বেশি ব্যবহার করবে কারা

কালোজিরাকে হাদিসে মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ওষুধ বলা হয়েছে। আর কালোজিরার তেল হলো এর সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ। কিছু মানুষের জন্য এই তেল প্রতিদিনের ওষুধের মতো কাজ করে, তাই তাদের বেশি ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত চুল পড়া, অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া বা মাথায় খুশকি যাদের আছে, তাদের জন্য কালোজিরার তেল সবচেয়ে উপকারী। সপ্তাহে দুই তিন বার দিনে কিংবা রাতে এই তেল মাথার তালুতে মালিশ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয়, নতুন চুল গজায় এবং খুশকি দূর হয়।

গবেষণা করে দেখা গেছে যে, কালোজিরা তেলে থাকা থাইমোকুইনন রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তারা প্রতিদিন সকালে ১ চা চামচ তেল মধুর সাথে খেতে পারেন। এটি রক্তচাপও স্বাভাবিক রাখে। সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্ট যাদের বারো মাস লেগেই থাকে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। কালোজিরার তেল শরীরের ইমিউনিটি অনেক বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন ১ চামচ তেল খেলে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে যায়।

পেট ফাঁপা, বদহজম বা গ্যাস্টিকের যন্ত্রণায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য এই তেল খুব কার্যকরী। এটি পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। ব্রণ, একজিমা এবং জয়েন্টের ব্যথা বা বাতের ব্যথায় যারা কষ্ট পাচ্ছেন তারা ব্যথার জায়গায় এই তেল গরম করে মালিশ করলে দ্রুত আরাম পাবেন ইনশাআল্লাহ। কিন্তু খেয়াল রাখবেন যে, গর্ভবতী মহিলা এবং যাদের বড় কোনো অপারেশন হবে তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনকিছু ব্যবহার করবেন না।

বাড়িতে কালোজিরার তেল বানাবেন যেভাবে

বাজারের ভেজাল তেলের ভিড়ে খাঁটি কালোজিরার তেল পাওয়া খুবই কঠিন। দোকানের অনেক তেলে কেমিক্যাল ও অন্য তেল মেশানো থাকে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় বাড়িতেই খাঁটি কালোজিরার তেল বানিয়ে নেওয়া। খুব সহজ একটা নিয়মে আপনি বাড়িতেই কালোজিরার তেল বানাতে পারবেন। যা বাজারের তেলের তুলনায় হাজার গুণ বেশি উপকারি।
চুলে-কালোজিরা-তেলের-উপকারিতা

প্রথমত গরম করে কালোজিরার তেল বানাতে পারেন। এটার জন্য লাগবে ১০০ গ্রাম কালোজিরা এবং ২৫০ মিলি খাঁটি নারকেল তেল বা সরিষার তেল। প্রথমে কালোজিরা ভালো করে ধুয়ে ২ ঘন্টা রোদে শুকিয়ে নিন যেনো কোনো পানি না থাকে। এবার কালোজিরা হালকা ভেজে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করিয়ে নিন। একদম মিহির মতো গুঁড়া করতে হবে না। একটি কড়াইয়ে নারকেল তেল গরম করুন এবং তেল না ফুটিয়েই কালোজিরা দিয়ে দিন।

চুলা একদম কম আঁচে রেখে ১০-১৫ মিনিট নাড়তে থাকুন। যখন সুন্দর ঘ্রাণ বের হবে তখন চুলা বন্ধ করে দিন। তেল ঠান্ডা হলে একটি পরিষ্কার কাঁচের বোতলে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। এই তেল ১ মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে এবং চুলে ও ত্বকে ব্যবহারের জন্য সেরা। এছাড়া আপনি কালোজিরা তেলের সাথে অলিভ ওয়েল কিংবা পেয়াজের তেল ব্যবহার করতে পারেন।

শেষ কথাঃ চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা

চুলে কালোজিরা তেলের উপকারিতা বললে গুণে বুঝানো যাবে না। এটি আল্লাহর দেওয়াও অনেক বড় একটি নেয়ামত। আমার পোষ্ট পরে আপনারা হয়তো বুঝতেই পারছেন কালোজিরা শুধু চুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নই এটি মানবদেহেও অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপনারা চাইলে কালোজিরার ভর্তাও বানিয়ে খাইতে পারেন। কালোজিরার ভর্তা খিচুড়ির সাথে মাখিয়ে খাইলে জিভে স্বাদ লেগে থাকবে। এছাড়া কালোজিরা তেলও আপনি খিচুড়ির সাথে খাইতে পারেন।

আর আপনারা যখন চুলে কালোজিরার তেল ব্যবহার করবেন তখন চেষ্টা করবেন একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহার করার। নইতো কালোজিরার তেল আপনার জন্য উপকারি হয়ে উঠবে না। সপ্তাহে সর্বনিম্ন দুই বার ব্যবহার করবেন এটা মাস্ট। আপনি নিয়মিত কালোজিরার তেল ব্যবহার করুন, তখন  আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এটি আপনার চুলে কতোটা পরিবর্তন আনছে।

আমার পরামর্শ হচ্ছে যারা চুল নিয়ে অনেক চিন্তিত কিংবা যাদের চুল অকালেই ঝড়ে যাচ্ছে। তারা শুধু নিয়ম মেনে একমাস কালোজিরার তেল ব্যবহার করুন। এটি আপনার চুলে ভয়ানক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।  এজন্য যারা চুলের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন তাদের জন্য কালোজিরা তেলের কোনো তুলনা নেই। নিয়মিত কালোজিরার তেল ব্যবহার করুন এবং আপনার চুলকে সুস্থ রাখুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরজে লাইফ হাবের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url